৪২ বছর পর মা-বাবাকে খুঁজতে জার্মান থেকে বাংলাদেশে


রাশেদুল ইসলাম (জামালপুর থেকে): জামালপুর জেলার সদর উপজেলার নারীকেলী ইউনিয়নের গুদাসিমলা বাজার এলাকার গাইতিপাড়া এলাকায় । জন্মের পাঁচদিন পর শিশু সেলিনাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় মা-বাবা । তার পর জীবন থেকে চলে ৪২টি বছর । ভাগ্যের জেরে বাংলাদেশের জামালপুরে জন্ম নেওয়া সেলিনা পারি জমায় জার্মানীতে ।

কিন্তু মাতৃভুমি ও মা বাবাকে ভুলতে পারেনি সেদিরে সেই ছোট্ট শিশু সেলিনা । এটা তার কুড়িয়ে প্ওায়া বাবার দ্ওেয়া নাম । মা-বাবাকে থুজে পেতে ছুটে আসেন জামালপুর জেলার সদর উপজেলার গুদাসীমলা বাজার  গাইতিপাড়া গ্রামে । মা -বাবাকে খুজে না পেয়ে আবেগে অপ্লুত হয়ে পড়েন সেলিনা । ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাব সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বলে আমি বাঙ্গালী বাংলাদেশে আমার জন্ম সে জন্য তোমার গায়ের রং আমার গাযের একই রকম । তুমি আমার ভাই তোমরা আমার মা- বাবাকে খুঁজে বের তাদের সন্ধান দিবে । তান্না জড়িত কন্ঠে বলতে থাকে আমি যে খানেই থাকি বাংলা ভাষা শিখে মা বাবাকে খুজতে   আসবো নিজ গ্রামে ।

সেলিনা বলেন আমার মা- বাবা হয়তো দারিদ্রতার কারনে আমাকে ৫ দিন বয়সে রাস্তায় ফেলে চলে যান । রাস্তার পাশে থেকে উদ্ধার করে গ্রাম বাসীরা একটি এতিম খানায় দিয়ে আসে । সেই সময় একজন বিদেশী এনজ্ওি কর্মী মেয়েটিকে নিতে চাইলে গ্রাম বাসী বিদেশী লোকটির হাতে তুলেদেন সেলিনাকে । সেলিনাকে নিয়েই চলেযান এনজ্ওি কর্মী তার নিজ দেশ জার্মানীতে । তারপর থেকে সেলিনা জার্মানীতেই বসবাস করছেন । গত-মঙ্গলবার ৭/১০/২০১৯ইং তারিখে বিভাগীয় প্রেসক্লাব সরিষাবাড়ী উপজেলা  শাখার সভাপতি  ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম এর কাছে মোবাইল ফোনে কথা বরেন বিভাগীয় প্রেসক্লাব এর সভাপতি এ কে এমস ফখরুল  আলম বাপ্পি চৌধুরী ।তিনি একটি মোবাইল নাম্বার দিলেন সেই নাম্বারে কন্টাক করার জন্য ,কথামতো সেই নাম্বারে কথা বলি আসতে বলি আমাদের সরিষাবাড়ীতে । দুপুর ১২টার সময় এসে হাজির হলেন সরিষাবাড়ী উপজেলার ২১শে মোর প্রেট্রোল পাম্প এলাকায় । কফি খেতে খেতে জানতে পারলাম তাদের বাংলাদেমে আসার কাহিনী ।

তাদের লোকেশান অনুযায়ী গন্ত্যবের পথে রওনা হলাম । গাড়ীতে চলতে চলতে জানতে পারলাম তার পালক বাবার কথা তার নাম জন ম্যাকডোলান্ড । ১৯৭৬ সালের জুন /জুলাই মাসে জামালপুরে সদর উপজেলা নারিকেলী ইউনিয়নের গুদাসিমলা বাজার গাইতিপাড়া গ্রাম থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিল তার পালিত বাবা জন ম্যাকডোলান্ড । জন ম্যাকডোলান্ড একটি বে-সরকারি শিশু সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতেন । কাজ শেষে সেলিনাকে নিয়ে তিনি জার্মানীতে চলে যান ।এর পর জার্মানীর একটি স্কুলে ভর্তি করান । সেলিনার বয়স যখন ৬ বছর তখন জানতে পারে যে তাকে বাংলাদেশ থেকে ন্ওেয়া হয়েছে । জন ম্যাকডোলান্ড তার পালক বাবা ।তিনি জার্মানীতে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ।স্টেফান নামের এক জার্মানীকে বিয়েকরেন ।এই দম্পতির আঞ্জেলা(২২) নামের একটি মেয়ে ও ফিন(১৫) নামের একটি ছেলে রয়েছে । স্বামীর সঙ্গে ছাড়া ছাড়ি হ্ওয়ার পর জার্মানীর ফ্রাস্কফুট শহরের কাছে একটি হাসপাতালে জেনারেল ফিজিসিয়ান মার্কসেয়ারার সঙ্গে তার পরিচয় হয় । একই  হাসপাতালে সেলিন্ওা কাজ করেন ।

এক পর্যায়ে তিনি সেয়ারারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেয় । গত-৪ অক্টোবর তিনি প্রথম বারের মতো সেয়ারারকে নিয়ে  বাংলাদেশে আসেন । জার্মানে অবস্থান রত একজন বাংলাদেশী আনিছুর রহমান এর  সাথে কথা বললে তিনি তার বন্ধু দেলোয়ার হোসেন নামের একজনের সাথে কথা বলেন । দেলোয়ার হোসেন বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফকরুল আলম বাপ্পী চৌধুরীর সরনাপন্ন হলে সাংবাদিক রাশেদুল ও সাংবাদিক ফজলুল হক সেলিনা সহ ৫জন প্রাইভেট কার যোগে গুদাসিমলা বাজার গাইতিপাড়া গ্রামে পৌছাই । তথ্য অনুসন্ধান করতে রোদে পুরে বিবিন্ন এলাকার প্রবীন লোকদের সাথে কথা বলে ঘাম ঝড়িয়ে সহায়তা করলাম আমরা দুইজন সাংবাদিক অথচ ফায়দা লুটেনিল দেলোয়ার নামের ময়মনসিংহের  লোকটি । প্রায় ৫ গন্টা খুজে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া জায়নি সেলিনার জন্ম স্থান গাইতপাড়ায় । বলতে পারলোনা সেদিনের শিশু ফেলে যাবার কথা । আবেগ জড়িত কন্ঠে সেলিনা বলেন জন্ম স্থান ও  তার বাবা মাকে খুঁজতে তিনি আবার গাইতি পাড়ায় আসবেন । এবার আক্ষেপ নিয়ে ফিরে গেলেও  এর পর আসবেন বাংলা ভাষায় কথা বলা শিখে।

No comments

Powered by Blogger.