কালুখালীর বধ্যভূমি দীর্ঘ ৪৮ বছর অবহেলিত


আবুল কালাম আজাদ, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বধ্যভূমি আজও অবহেলিত। মানুষ গরু চড়ানো, ঘুটা (গোবর দিয়ে তৈরি জ্বালানী) শুকানো ও মুত্র ত্যাগের স্থান হিসেবে বধ্যভূমি ব্যবহার করেছে। এদিকে কারো কোন খেয়াল নেই।

৭১ এর প্রথম দিকে হানাদার বাহিনী রাজবাড়ী কালুখালী রেল স্টেশনে ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় পাকিস্থানী সেনারা ভাটিয়াপাড়া, মধুখালী, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের কালুখালী ক্যাম্পে ধরে এনে নির্যাতন করতো। লুন্টন করতো যুবতীদের ইজ্জত। পরে তাদের হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখতো রেললাইনের দক্ষিণে পাশে। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। আমরা স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করি। কিন্তু সেই ভাগ্যাহত মানুষদের কোন খোঁজ রাখিনি কেউ।

১৯৯৬ সালে আওয়ামীলী ক্ষমতায় এলে সারাদেশের ১শ ৭৬টি বধ্যভূমি তালিকাভূক্ত করে। সেই তালিকায় উঠে আসে রাজবাড়ীর কালুখালীর বধ্যভূমি নাম। সেনাবাহিনীর একটি টিম স্থানীয়দের সহযোগীতায় জায়গাটি চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ওই সময় ঘোষণা করা হয়েছিল সবগুলো বধ্যভূমি স্থান চিহ্নিত করার পর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করে শহীদদের স্মরণ করা হবে। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে থেমে যায় সেই কার্যক্রম। তারপর কেই আর খবর রাখেনি কালুখালীর বধ্যভূমির।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর কালুখালী উপজেলা প্রশাসন বধ্যভূমিতে ছোট পরিসরে ইটের স্তম্ভ নির্মান করে পুষ্পমাল্য প্রদান করে । ২০১৭ সালে বধ্যভূমি তিন পাশ ওয়াল বাউন্ডারী দিয়ে ঘেরা হয়। তারপরও অরক্ষিত থেকে যায় কালুখালী বধ্যভূমি ।
বৃহস্পতিবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায় বধ্যভূমির তিনপাশের দেওয়াল ব্যবহার হচ্ছে ঘুটা শুকানোর কাজে। কুষ্টিয়ার আমজাদ হোসেন নামক এক পথচারীকে বধ্যভূমির উপর মুত্র ত্যাগ করতে দেখা যায়। কেন বধ্যভূমিতে মুত্র ত্যাগ করলো জানতে চাইলে আমজাদ জানায়, কোন সাইবোর্ড না থাকায় আমি বুঝতে পারিনি এটি বধ্যভূমি। স্থানীয়রা জানায়, অনেকে গরু ছাগল চড়ানোর কাজে বধ্যভূমি ব্যবহার করে।

অরক্ষিত বধ্যভূমি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক জানান, কালুখালীর বধ্যভূমিতে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের জন্য আমি বিভিন্ন সভা সমাবেশে দাবি তুলেছি। তিনি দ্রুত এটি নির্মানের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কালুখালীর সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রতিমা রানী বিশ্বাস জানান, আমি কালুখালীর বধ্যভূমির পাশ দিয়ে যতবার যাই, ততবার একটি কথাই ভাবি আজ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বধ্যভূমি অরক্ষিত কেন? আমি বধ্যভূমিতে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করে এর সুরক্ষার দাবি জানাই।

No comments

Powered by Blogger.